বেঁচে থাকা


ঢাকা থেকে বগুড়ায় যাচ্ছিলাম। যাচ্ছিলাম হযরত শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের দূর পাল্লার একটি গাড়ীতে করে। 
মাঝারী মাত্রার যান যটের কারণে গাড়ীটা ধীর গতীতে এগুচ্ছিল, অপ্রত্যাশিতভাবে থামতেও হচ্ছিল বার বার। এ কারণে যাত্রাটা ছিল খুবই কষ্টকর। 
২৫ মিনিটের বিরতিতে বাসটি যখন হোটেল ফুড ভিলেজ এ এসে থামল তখন রাত ১০ টারও বেশি। 
মোবাইল ঘড়িতে কয়েকবার সময় দেখে নিয়ে বুঝলাম যে সময়ের মধ্যে বাসটির এখানে এসে পৌছাবার কথা তার চেয়ে অনেক বেশী সময় নিয়ে ফেলেছে। 
২৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বিরতিতে আমি দুই দুইবার হোটেলে প্রবেশ করলাম। বিন্তু কি খাব সে বিষয়ে কোন সিদ্ধান্তই নিতে পারলাম না। 
হোটেল থেকে বেড়িয়ে সামনের খোলা জায়গা জুরে পায়চারি করতে লাগলাম। কিছু কিনব বলেও মনে মনে ভাবছিলাম। এ দোকানে ও দোকানে অনেক কিছু ছিলও। কিন্তু পছন্দ করতে পারলাম না কিছুই। 
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সময়টা ছিল শীত মৌসুমের শুরুর দিক। এক ধরণের ঠান্ডা হাওয়ায় বেশ শীত শীত অনুভব করছিলাম।
কোন কিছু না খেয়ে, না কিনে বাসে উঠে নিজের সিটে বসে পড়লাম। আর আমার মনের অস্থির অবস্থাটা বুঝতে পারলাম ওই সময়েই। 
অস্থিরতার কারণ যে গন্তব্যে অনেক দেরিতে পৌছাবার সম্ভাবনা তাও খুব সহজেই বুঝতে পারলাম। 
মনটাকে শান্ত করতে প্রাণ পন চেষ্টা করছিলাম। আর আমি ইচ্ছে করলেই যে যান যট এড়াতে পারি না ভেবে সেই চেষ্টায় সফলও হলাম। 
কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই এখানে ওখানে ঘটে যাওয়া অসংখ ঘটনার স্মৃতি মনে করবার জন্যই মনের গতী পরিবর্তন হয়ে গেল। 
সেদিন দৈনিক খবর পড়তে যেয়ে ছয় বছর বয়সের এক ছোট্ট মেয়ে লাবনীর নিজের বাবা এবং সৎমা সম্পর্কে জানতে পারলাম। 
বিয়ের পর পরই ওই নারী সৎমেয়ে লাবনীকে গোয়াল ঘরে রাস্তার কোন কুকুর বা পশুর মত দড়ি দিয়ে হাত পা বেঁধে রেখে দেয়।
সে অবস্থায় লাবনীর জীবন থেকে কেটে যায় অনেকগুলো দিন, অনেকগুলো মাস। লাবনী ভাল কিছু খেতেও পায় নি, পায় নি পিতৃ-মাতৃ স্নেহ। 
লাবনী মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। হয়তো মরেও যেত। কিন্তু স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বেঁচে যায়। 
অন্য একদিন দেশে বিদেশে কি ঘটছে আর ঘটছে না তা জানার আগ্রহ নিয়েই টেলিভিশন দেখছিলাম। এক সময় হতবাক হয়ে শুনলাম ভবিষ্যৎএ আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখা টগবগে এক ছাত্রী একটি বাসে করে ভ্রমন করছিলেন। আর ওই বাসেরই চালক ও সহযোগীদের দ্বারা ধর্ষিত ও নৃশংসভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে ওই ছাত্রীকে। নিথর নিস্তব্ধ মৃত দেহ দেখে ভীষন কষ্ট পেয়েছিলাম। 
প্রায় বছর খানেক আগে আমার মেস বাড়ির রুমে চুরি হয়েছিল। চোরেরা আমার ল্যাপ্টপ কম্পিউটার, স্মার্টফোন, কিছু টাকা, কাপড় চোপড় এবং আরও কিছু নিয়ে গিয়েছিল। 
যদি মনে করে করে হিসাব করি তাহলে এ ধরণের ঘটনার সংখ্যা হবে অগুণিত। 
এসব ঘটনা ঘটার কারণ কি? কেন কিছু কিছু মানুষ এসব ঘটনাগুলো ঘটায়? 
আপনার অথবা অন্যদের উত্তর কি হবে জানি না। তবে আমি বলব কারণ একটাই আর তা হচ্ছে- বেঁচে থাকা। 
-------------- 
কে সি মিলান 
বগুড়া 
১১-১১-২০১৭ 

Comments